রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে কয়েকটি অংশে কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই ধস দেখা দিয়েছে।
প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) দিয়ে ডাম্পিং না করা, নদীর পাড় থেকে মাটি কাটা ও বালু স্তূপ করে রাখায় বাঁধের প্রতিরক্ষা সিসি ব্লকগুলো ধসে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ধসের খবরে গত বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিমুল আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পাউবোর পাবনা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে নাটোরের লালপুরের তিলকপুর থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীতে ৯ দশমিক ৬৫ মিটার ও ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের কোমরপুর থেকে সাঁড়াঝাউদিয়া রেলের গাইড বাঁধ পর্যন্ত ৬ হাজার ৬২০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়।
কাজের মধ্যে ছিল নদীপাড়ে পানির নিচে জিও ব্যাগ ও ব্লক দিয়ে ডাম্পিং করা এবং সর্বনিম্ন লেভেল থেকে ব্যাংক পর্যন্ত নদীপাড় সিসি ব্লক দ্বারা আচ্ছাদিত করা।
এ কাজে ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় কিছু অংশ বাদ পড়ায় এবং দৈর্ঘ্য-প্রস্থ কমে আসায় নির্মাণ ব্যয় কমিয়ে ১৯৮ কোটি টাকা করা হয়।
চলতি বছরের ৩০ জুন নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু কাজ শেষের এক মাস পূরণ হতে না হতেই ঈশ্বরদীতে প্রতিরক্ষা বাঁধে বিভিন্ন অংশে সিসি ব্লক সরে ফাঁক হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সাঁড়াঝাউদিয়া রেলের গাইড বাঁধ সীমানার অংশে ব্লক ধসে ও দেবে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝাউদিয়া বাঁধের পূর্ব পাড়ে প্রায় ২০ ফুট জায়গার মাটি ও সিসি ব্লক ধসে গেছে। বাঁধের পাড়ের মাটিও সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সিসি ব্লকের প্রায় ১৫ ফুট বাঁধ দেবে গেছে। ওই স্থান থেকে শুরু করে সাঁড়াঘাটের আসাদের বাড়ি পর্যন্ত প্রতিরক্ষার সিসি ব্লকগুলো একটা থেকে আরেকটি সরে গেছে।
এলাকার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঁধের ব্লক স্থাপনের সময় বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) দিয়ে ডাম্পিং করার নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। অল্প কিছুসংখ্যক বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হয়েছে।
বাঁধের নিচে পুরোনো বোল্ডার (পাথর) সরিয়ে ফেলা হয়েছে। শুধু ঝাউদিয়া অংশে নয়, বাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লক সরে যাচ্ছে। ফলে আমরা আতঙ্কিত।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরদীর ইউএনও নাসরিন আক্তার বলেন, তিনি পরিদর্শনে এসে বাঁধের কিছু অংশে ধস ও দেবে যাওয়ার সত্যতা পেয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন। এবং পাউবো কার্যালয়ে জানানো হবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, নির্মাণকাজের গাফিলতি ছিল না। বৃষ্টিতে মাটি ও বালু ধসে যাওয়ায় সিসি ব্লকের কিছু অংশ দেবে ধসে গেছে। যেসব স্থানে ধস নেমেছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের মাধ্যমে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।
কাজ শেষের এক মাসেই পাউবোর বাঁধে ধস!
নিউজ আপডেট টাইম : জুলাই, ৩১, ২০১৭, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে :
146 বার
